ঈদের জামাতে করোনা থেকে মুক্তির প্রার্থনা

ছাতকবাজার ছাতকবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০
নিউজ শেয়ার করুনঃ

রাজধানীসহ সারা দেশে আজ ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। করোনার এই সময়ে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদ উদযাপন করছে। করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আগে থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৭টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান।

মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া মোনাজাতে সবার গুনাহ মাফ ও মৃত ব্যক্তির কবরের আজাব মাফ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য দোয়া করা হয়।

এছাড়াও বায়তুল মোকাররম মসজিদে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি জামাত হবে সকাল ৭টা ৫০, ৮টা ৪৫, ৯টা ৩৫, ১০টা ৩০ এবং ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ঈদ জামাত।

করোনার কারণে নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে সকাল থেকেই মাস্ক পরে মুসল্লিরা দলে দলে বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাতে অংশ নেয়ার জন্য যোগ দেয়। নির্ধারিত সময় সকাল ৭টায় নামাজ শুরু হয়।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে রক্ষা, মুসলিম উম্মাহ ও দেশ-জাতির সুখ-শা‌ন্তি-সমৃদ্ধি কামনায় যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খুলনায় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ‌নিবার (১ আগস্ট) সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে ঈদের প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি ও টাউন জামে মসজিদের খতিব সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ।

ঈদের প্রধান এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ্। একই সারিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবা‌দিক, উন্নয়নকর্মী, সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী-শিল্পপতিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

রংপুর জেলার প্রায় ছয় হাজার মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

সকাল সোয়া ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহানগরসহ জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মসজিদে মসজিদে এসব ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল আটটায় রংপুর নগরীর কোর্ট মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কেএম তরিকুল ইসলাম, সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এছাড়া কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় ও সকাল সাড়ে ৯টা, পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ও সাড়ে ৮টায়, শাপলা চত্বর আশরাফিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, জুম্মপাড়া করিমিয়া মাদ্রাসায় সকাল সোয়া ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এবার ঈদুল আজহার জামাত আদায় শেষে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তিসহ দেশে শান্তি-সম্মৃদ্ধি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সম্প্রীতি কামনায় মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা, জঙ্গিবাদ ও করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ঈদ জামাতের খতিবগণ।

ময়মনসিংহ নগরের আঞ্জুমান ঈদগাহ মসজিদে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে নয়টায় এবং শেষ জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম জামাতে অংশ নেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ জনসাধারণ।

নামাজ শেষে খুতবা পেশ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও মোনাজাত। মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনার পাশাপাশি সম্প্রতি বিশ্ব ও বাংলাদেশজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার নিহত পরিবারের রুহের মাগফিরাত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, করোনা প্রতিরোধে প্রতিটি মসজিদে সবাইকে সতর্ক থেকে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এক কাতার ফাঁকা রেখে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মানার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো।

ত্যাগের মহিমায় পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নোয়াখালীতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৪৩৪৯ টি মসজিদে শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা । নামাজ শেষে পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজেছেন মুসলমানরা।