পাগলের সংখ্যা কম,ফেসবুকে ডাক্তারই বেশী

ছাতকবাজার ছাতকবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০
নিউজ শেয়ার করুনঃ

করোনাকালে পাগলের সংখ্যা কমলেও ডাক্তারের সংখ্যা বেড়ে গেছে।বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হা যেখানে নির্দিষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছেনা।একমাত্র চিকিৎসকরা অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ও চিকিৎসা দিচ্ছেন।স্বাস্হ্য বিধি অনুসরনের গাইড দিচ্ছেন সেখানে ফেসবুকে অনেকে যার যার ওয়ালে কিংবা ইনবক্সে কত কিছু পাঠাচ্ছেন।আরে বাবা যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আমাদেরতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন।সবার চিকিৎসক ওষুধ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

যাদের কোন অসুখ নাই তারা স্বাস্হ্য বিধি মেনে চলবেন।প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিবেন।করোনা হলেও ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন।টেলিমেডিসিনও আছে।যেখানে বেহাল স্বাস্হ্য ব্যবস্হা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন সেখানে ফেসবুকজুড়ে আজ সবাই ডাক্তার।এমবিবিএস মুন্না ভাইদের দাপট চলছে।কাচাবাজারের ব্যবসায়ীরাও চিকিৎসাজ্ঞান নির্দেশনা দিচ্ছেন।সবাই স্বাস্হ্য বিশেষজ্ঞ।

কতদিন আগে মোবাইলে লাইভ দিলেন এক ভদ্রলোক।সাথে তার স্ত্রী লাইভটি করলেন!পেটমোটা খালি গায়ে ভদ্রলোক বাড়ির ছাদে রোদে হেটে বলছেন ভিটামিন ডি নিচ্ছেন।তারপর তারা ভিটামিন সি,লেবুরর শরবত ও ফল খাবার কথা জানিয়ে দেখালেন।আমার মনে হলো গাড়ল শুনেছি,এবার দেখছি।এরপর করোনার লকডাউন যতো বাড়লো মানসিক সমস্যা থেকে অনেকে আবোল তাবোল বলতে থাকলেন।টিভির টকশোতে যেখানে আগ্রহ নাই সেখানে স্মার্টফোন যার হাতে তিনিই টকশো শুরু করলেন।

যে দেশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এখনো মানুষ গ্রাম্য কবিরাজ বা ক্যানভেসারের কথা শুনে সেখানে এটাও শুনতে অসুবিধা কি!সেই পেটমোটা ভিটামিন ডির মতো পরে অনেক নরনারীর মাথার স্ক্রু ঢিলে হলো।সংক্রমিত হলেন তারা।মানসিক সমস্যাও বাড়লো। ব্যক্তিত্ব রুচি হারিয়ে চিকিৎসা পরামর্শ থেকে এক্সসারসাইজ পর্যন্ত দেখাতে শুরু করলেন তারা।হায়রে মানুষ।করোনা কবে যাবে কেউ জানেনা।বলা হচ্ছে এই শয়তানের সাথেই ভীতিকর বাস করতে হবে।তবে ফেসবুকে যতো ডাক্তার দেখছি, মনে হচ্ছে সামনে মানসিকরোগ বিশেষজ্ঞরা এদের শিডিউল দিতে পারবেনতো?কতজনের যে কাউন্সেলিং লাগবে।আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত করুন।প্রয়োজন মনে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।তারাই বলবেন আপনি কি খাবেন,কি খাবেননা,কিভাবে সচেতন থাকবেন,কি করবেন।ফেসবুক ডাক্তার বিশেষজ্ঞ কমলে মানুষ বাঁচবে।

লিখেছেনঃ পীর হাবিবুর রহমান,
নির্বাহী সম্পাদক,বাংলাদেশ প্রতিদিন।