শীত-বৃষ্টিতে ফসল নিয়ে শঙ্কা

ছাতকবাজার ছাতকবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০
নিউজ শেয়ার করুনঃ

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা এবং গত দুই দিন ধরে টিপ টিপ বৃষ্টির কারণে শীত কালিন শাকসবজি ও বোরো আবার দিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাত্র পরিপক্ক হতে শুরু করা আলুর ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে আলু, বোরোর বীজতলা ও সবজি জাতীয় ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষে উপজেলাভিত্তিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। নীলফামারীতে বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শুক্রবার সকালে সূর্যের মৃদু আলো ছড়ানোয় কুয়াশাভাব কেটে গেছে।
জয়পুরহাটে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। তবে শুক্রবার সকাল ১০টার পর মেঘ কেটে গিয়ে রোদ ওঠায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। রাতের বৃষ্টির কারণে আলুর ফলন নিয়ে কৃষকরা শঙ্কায় ছিলেন। তবে শীতের প্রকোপও তেমন একটা নেই বললেই চলে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কোমরগ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘আবহাওয়ার কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দুই সপ্তাহ আগেও কি প্রচণ্ড শীত! এখন আর শীতের সেই দাপট নেই। আবার রাতে বৃষ্টি তো সকালে উঠছে রোদ। আবহাওয়ার এই লুকোচুরি খেলায় আলু ক্ষেত নিয়ে আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি। আজ আবহাওয়ার অবস্থা খুবই ভালো। রাতে বৃষ্টি হলেও সকালে রোদের কারণে আলু ক্ষেত নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে।’
ক্ষেতলাল উপজেলার বেলগাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, ‘বৃষ্টি শুরুর পর থেকে আলুক্ষেতের দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয়নি। তবে সকাল ১০টার পর রোদেলা আকাশ দেখে মনটা ভরে গেছে। আশা করছি সারাদিন যদি এভাবে রোদ থাকে তাহলে আলুক্ষেতের কোনও সমস্যা হবে না।’
আক্কেলপুর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধ আমেনা বেগম বলেন, ‘রাতে বৃষ্টি দেখে মনে হয়েছিল শীতে বোধহয় এবার আর রক্ষা হবে না। কিন্তু সকাল থেকে আকাশে রোদ দেখে ভীষণ ভালো লাগছে। শীতও অনেক কমে গেছে।’
দিনাজপুরের হিলিতে দুই দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে আলু ও টমেটোর ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে কয়েকদিন শীতের মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও বৃষ্টির কারণে শীতের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।

হিলির খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ধানে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের কারণে লাভের আশায় এবারে আলু ও টমেটো রোপণ করেছি। গাছও বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিন শীতের প্রকোপ ও কুয়াশার কারণে ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যেই শীতের প্রকোপ ও কুয়াশা কমে গেছে। কিন্তু গতকাল রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে নতুন করে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আলু ও টমেটোর জমিতে পানি জমে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষেতে পোকা মাকরের আক্রমণ বাড়বে। যার কারণে ফলন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।’

একইসঙ্গে বৃষ্টির কারণে সরিষা ও বোরো বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে মাঠে যেসব টমেটো ও আলু জাতের ফসল রয়েছে সেগুলোতে ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। তবে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যাতে বৃষ্টির পরপরই ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। তাতে করে এধরনের সমস্যা হবে না। তবে এই বৃষ্টিতে বোরোর বীজতলার কোনও সমস্যা হবে না’

খুলনার ডুমুরিয়ার ১৮ মাইল এলাকার কৃষক আইয়ুব হোসেন মাহমুদ জানান, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাপারীরা আসছেন না। ফলে তিনি ধনেপাতা, পেঁয়াজের চারা বিক্রি করতে পারছেন না। বেগুন গাছেও পোকা দমনে কীটনাশক দিয়ে উপকার পাচ্ছেন না। কারণ শীতে কীটনাশক কাজ করছে না।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘এ বৃষ্টিতে বোরো বীজতলায় নেতিবাচক প্রভাব হবে। বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে পড়ছে। আর ধান চাষ পিছিয়ে যাবে। তবে, গম, সরিষা, ভুট্টা, পেয়াজ, আলুর জন্য উপকার হবে। কারণ এগুলোতে সেচ প্রয়োজন হয়। এ বৃষ্টির ফলে এসব সবজিতে উপকার। তবে জমির মাটি কাঁদা কাঁদা হলে বা পানি জমলে ক্ষতি হতে পারে।’

সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, এখন হাওর এলাকায় বোরো আবাদের মৌসুম চলছে, বৃষ্টির জন্য কৃষিকাজ অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে হাওরে ধানের চারা রোপণ, হালচাষসহ কৃষি কাজ থমকে আছে।