পিতা ও দুই মেয়ের মৃত্যু: স্ত্রী জানে না স্বামীর মৃত্যু, ছেলে জানে না পিতার

ছাতকবাজার ছাতকবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯
নিউজ শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক সাইফুজ্জামান খান। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর দুই মেয়ের। মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তার স্ত্রী কণিকা জামান খান এবং একমাত্র ছেলে মন্টু খান। কিন্তু স্ত্রী এখনো জানেন না স্বামী আর এ পৃথিবীতে নেই। ছেলে মন্টু খানও জানে না তার বাবা ও দুই বোন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। ভাষাহীন মর্মন্তুদ এ ঘটনায় হতবিহবল পরিবারের স্বজনরা। বর্তমানে চিকিৎসাধীন মা ও ছেলে। এর মধ্যে মায়ের জ্ঞান মাঝে মাঝে ফিরলেও ছেলে এখনও প্রায় সংজ্ঞাহীন।

সোমবার সকাল ১১টায় মা ও ছেলেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলবে। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বজনেরা।
নিহত সাইফুজ্জামান খান মিন্টুর বড় ভাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক ড. মোস্তফা কামাল খান বলেন, ‘আহত হওয়া কণিকার জ্ঞান ফিরেছে। মাঝে মাঝে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। ছেলের কথাও জিজ্ঞেস করেছে। কিন্তু ছেলে এখনও চোখ খোলেনি। মাঝে মাঝে শুধু হাতের দু’একটা আঙ্গুল নাড়াচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ’

সাইফুজ্জামান খান মিন্টুর বন্ধু চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় কুমার বসাক বলেন, ‘ভাবির (কণিকা) জ্ঞান ফিরলেও ডাক্তারের পরামর্শে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে মনে হয় তিনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। কারণ তিনি ছেলে ছাড়া আর কারও কথা জিজ্ঞেস করছেন না। বিষয়টি এত কষ্টের, তারা কিভাবে সহ্য করবেন সেটাও বুঝতে পারছি না।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট বাইপাস মোড়ে ঢাকামুখী প্রাইভেট কার ও চট্টগ্রামমুখী কনটেইনারবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাইভেট কারে ছিলেন সাইফুজ্জামান খান মিন্টু (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী কণিকা জামান খান (৪০), দুই মেয়ে আশরা জামান খান (১৩) ও তাসনিম জামান খান (১১) ও একমাত্র ছেলে মন্টু খান (১০)। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন। আহত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিন্টু মারা যান। শনিবার বিকেলেই আহত মা ও ছেলেকে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে নিহত তিনজনের লাশ চাঁদপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নিশ্চিন্ত গ্রামের সন্তান জেড আই সাইফুজ্জামান খান মিন্টু। পরিবারে ছয় ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে মিন্টু দশম। স্ত্রী কণিকা জামান খান গৃহিণী। বড় মেয়ে আশরা জামান খান ফেনী ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণযর ছাত্রী ছিলেন। মেঝ মেয়ে তাসনিম জামান খান ও ছেলে মন্টি খান ঢাকার একটি স্কুলের চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত ২৩ ডিসেম্বর তারা বান্দরবানে যান। ফেরার পথে নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথে লরির সঙ্গে প্রাইভেট কারের দুর্ঘটনায় দুই মেয়েসহ মারা যান তিনি।